Wednesday, June 21, 2017

সময়ের কান্না
















এটা কি সুপ্রভাত?!!!
বুকে বুকে শুধু বিষাক্ত ধোঁয়া- প্রতিশোধ, সংঘাত।
দৃষ্টি রুদ্ধ, রীতি-বিরুদ্ধ ধর্মের সংকটে-
এখানে মানুষ, ওখানে মানুষ- মৃত্যুর তল্লাটে।
সভ্যতা সাজে মুখোশের পিছে, স্বার্থের পিছে মন,
কান্নার পিছে চোখ খুঁজে মরে- সুদিনের আগমন।


সিরিয়াতে ভাসে সমুদ্রে- সেটা শিশু নাকি মানবতা?
খুন হয়ে যাক ইশরাখ- তবু জয় হোক সভ্যতা।
যুদ্ধ শিবির, অস্ত্র- নিবিড় সখ্যতা নিয়ে বাঁচে,
মানুষ বাঁচাতে মানুষই মারবো- মানবতা ফেলে নিচে।


আজ সকালের রোদ,
কোথায় পড়েছে? সভ্যতা বোনে বুনো শ্বাপদের ক্রোধ
বুকে হাহাকার, চিত্ত বিকার ক্রন্দনে ক্রন্দনে,
মানুষ মরছে, মনুষ্যত্বটা লুকিয়েছে অপমানে।
তবুও স্ফীত আমাদের বুক সভ্য আমরা সবে-
মৃত্যুর আর ঘৃণিত স্বার্থ-রক্তিম উৎসবে।

আজ বিকেলের আলো-
হেরে যায়; হেথা যুগে যুগে গড়া দূষণটা জমকালো।
মূল্যবোধের চাবিগোছা আজ অন্ধকারের হাতে,
ধর্মের নামে রাজনীতি আর ব্যবসার ধারাপাতে।
জিম্মির মতো বাচছে পৃথিবী নৈরাজ্যের ছায়ায়-
অভিশাপ, শুধু অভিশাপ এই শ্বাস-প্রশ্বাসে, হাওয়ায়।

আজকে কেবল রাত;
দিক-ভুল করা পথিক কাঁদছে, হৃদয়ে বজ্রপাত।
অন্ধের মতো চলেছি সবাই লোভের অন্ধকূপে;
আত্মরতিতে দূষিত সত্ত্বা- নিদারূন অভিশাপে।
চারপাশে শুধু ভয়াবহ এক ধ্বংসের উত্থান,
দিনকে করেছি বিদায়- এবার দিতে হবে প্রতিদান।

চেতনা






















একলা হাঁটছি পথ অনন্তকালের পথে,
অনন্ত সময়ে কোন অসীমের গন্তব্যের খোঁজে,
সকাল-সন্ধ্যের চাকা, নিয়তির পরিচিত রথে-
হৃদয়ে কেবল চাওয়া, অপেক্ষারা ভীড় করে আছে।
বহুকাল- বহুকাল শুকনো ফুলের মত মৃত
নৈশব্দের ডানায় উড়ে অপেক্ষায় প্রশান্ত হৃদয়
যেভাবে খুঁজেছে পরিণতি; শান্ত সমাহত
চিত্তে যেভাবে চেয়েছে তার অনাগত জয়-
অসীমে অসীম হওয়ার আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ পরিণতি।
সন্ধ্যার আলোর মত স্তব্ধ, মৌনতায় মোড়ানো শরীরে,
দেখেছে কিভাবে পায় সময়ের সাথে তার গতি;
ঝরা পাতা পতনের মতো সব প্রহেলিকা সরে যায় দূরে-
দেখে সে কিভাবে আজ,
অতীত আর আগামীর ঘুম ভাঙ্গে চেতনার নীরব শহরে।

ভালোবাসা ?


















দেখেছি তোমাকে সময়ের হাত ধরে
রোদ ছড়িয়েছ হাসির শব্দ দিয়ে,
দেখেছি তোমাতে আনন্দ ভর করে-
আনন্দ ছোটে তোমার স্পর্শ নিয়ে।


দেখেছি কিভাবে শহরটা জমকালো,
‘তুমি আছো’ এই কথাটা রয়েছে বলে-
কৈশোরটাও কিভাবে রঙ্গিন হলো,
তোমার চাউনি ভুলতে পারেনি বলে।


নি:শ্বাস ফেলো বাতাসের বুকে বুকে
ছুটে আসে তারা- অবিরাম, উচ্ছাসে
তোমার স্পর্শ, তোমার স্পর্শ-সুখে-
আমার হৃদয়, দেহ-মন চলে ভেসে।

তোমার স্পর্শে আকাশটা হলো নীল
প্রজাপতিটাও পেয়েছ বক্রগতি,
তুমি করে দিলে পৃথিবীটা বর্ণিল-
হৃদয়ের দ্বার খোলবার সম্মতি।

স্তব্ধ হয়েছে যত কিছু হয় ক্ষয়,
সময় পড়েছে তোমার ঘুঙুরে বাঁধা,
পৃথিবী ভুলেছে অতীতের পরিচয়,
বিলীন হয়েছে হিসাবের খেরো খাতা।

আমি জানি- শুধু তুমি আছো, আমি আছি-
শহরটা আছে তোমারই তো বাহুলীনা,
তোমাকে ঘিরেই ছুটছে ভাবনারাজি-
ভাবছে, এটাকে ভালোবাসা বলে কিনা!

Monday, June 19, 2017

সত্যকথন

সহজ সুস্পষ্ট সত্যকে এত সহজ কথায় চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার মতো গায়ক পৃথিবীতে আসলে হাতে গোনা কয়েকজনই এসেছেন। Pete Seeger তাদের মধ্য একজন। আর তার খুব সহজ (?) একটা গান “What did you learn today" শোনার পর ইচ্ছে হলো, এই অদ্ভুত সহজ কথাগুলো একটু সবার সাথে শেয়ার করি। ফলশ্রুতিতে নিজের মতো করে অনুবাদ করে এবং একটু সাজিয়ে গুছিয়ে পোস্ট করছি। আশা করি ভালো লাগবে.........


পিতা:
স্কুলে আজ কি কি শিখেছো বাবু সোনা আমার,
ভূগোল, সমাজ, বিজ্ঞান নাকি ধর্ম অথবা গ্রামার?















সন্তান:
শিখেছি আমরা স্বাধীন সবাই রাজার রাজত্বে,
মিথ্যে হয়েছে পরাজিত এই রাজাদের সত্যে।
শিখেছি রাজার সৈনিক সব অমর চিরটা কাল;
সত্যের আলো দূর করে দেবে হৃদয়ের জঞ্জাল।
আরো শিখিয়েছে পুলিশেরা সব মানুষের মতো হয়-
”বন্ধুই তারা আর কিছু নয়, করো না তাদের ভয়”।

ন্যায় বিচারের দন্ডটা নাকি চিরদিনে একই ভাবে,
খুনীদের মহাপাপের শাস্তি নিশ্চিত করে যাবে;
অবশ্য নাকি আমরাও কিছু ভুল করি মাঝে মাঝে,
কিছু কিছু খুনি এই ফাঁক দিয়ে মহাসমারোহে বাঁচে।
আরোও শিখিয়েছে, রাজা যিনি- তিনি শক্তিতে সুমহান,
নির্ভুল তিনি প্রতিটি সময়ে, দেব-বিশুদ্ধ প্রাণ।

নেতারাও জানি পূত: পবিত্র সততায়, আচরণে,
বার বার তাই ফিরে ফিরে তারা আসছে সিংহাসনে।
শিখেছি, যুদ্ধ দেখতে যতটা- ততটা খারাপ নয়,
মহাযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা যুগে যুগে বেঁচে রয়,
জার্মানি জানে, ফ্রান্সও জানে মৃত্যুর হাহাকার,
খুন নয় এটা, অপরাধও নয়, এটা নয় অবিচার;
মানুষ মেরেই ক্ষমতা, শক্তি- বেঁচে থাকে রাজাটার
আমারও নাকি সুযোগ আসবে- যুদ্ধে প্রাণ দেবার।

মোহমুক্তির কান্না





সব বিভ্রান্তিকেই কেন চলে যেতে হবে? কিছু কিছু ভ্রান্তিও কি সত্যের মতো বা তার চাইতেও মধুর হয় না? হৃদয়ের কি কখনো ইচ্ছে করে না, যে সে একটু ঘুমোবে কিংবা একটা স্বপ্ন দেখবে- যেখানে রং আছে, সৌন্দর্য আছে, ভালবাসা আছে?
এইতো সেদিনের কথা। বিভ্রান্তিতে ছিলাম- আমি এখনো ছোট, আর জীবনটা অনেক বড়। আরেকটু বিভ্রান্তি ছিলো জীবনকে সাজানো সম্ভব ফুলের বাগানের মতো। এটাতো হয় না। কিন্তু বিশ্বাস ছিলো, বিভ্রান্ত বিশ্বাস, ভ্রান্ত বিশ্বাস, মধুর বিশ্বাস। সেই অপদার্থ বিশ্বাসটা যদি থেকেই যেতো, তবে কি খুবই ক্ষতি হয়ে যেতো পৃথিবীর, কিংবা সোসিওলজির, সাইকোলজির, ইকোলজির বা বিজ্ঞানের? বিভ্রান্তিতে ছিলাম, মানুষগুলো সব মানুষেরই মতো, মনযুক্ত- মানবিক। যে অনুভব করে, চিন্তা করে, ভালবাসে, ভালবাসায়। সে মানুষকে দেখে, তার হৃদয়কে স্পর্শ করে, চায় তার হৃদয়কে কেউ স্পর্শ করুক। কিন্তু এই ভ্রান্তিটাকেই কেন চলে যেতে হবে?
সূর্য ডোবার সময় লাল আলোটাকে, যাকে আমার মতো মোহগ্রস্থ কেউ নাম দিয়েছে “লালিমা”- এইতো সেদিনও ভেবেছি দৈব, অপার্থিব। মনটা কেমন সুদূর অতীতে চলে যেতো। চাদেঁর রূপালি আলোটাকেও মনে হতো, সে আমাকে ধূয়েঁ দিচ্ছে পরম মমতায়, পূর্ণ স্নেহে- তার সবটুকু পবিত্রতা দিয়ে। আজ বিভ্রান্তি দূর হয়ে গেছে- আজ আমি জানি কোন সুদূর অতীত নেই, চাদেঁরও কোন পবিত্রতা নেই। মানুষের হৃদয়ও অন্ধ হয়, আর জীবন কখনো ফুলকে স্পর্শ করতে পারে না।
মহাকাল কি মোহের এই অধিকারটুকুও কেড়ে নেবার অধিকার রাখে?

Sunday, June 18, 2017

অবশেষ















ঘাসের বুকে কুয়াশার আঘ্রাণ,
রংধনুতে রং মিশিয়ে চলে;
আকাশ-মাটির এখানে একতান
দুরত্বটা দূর করেছে বলে

তোমার আমার হাত যদিও দূরে-
ভাবনা তবু একসাথে যায় বয়ে,
আকাশটা নয় হারাক চিরতরে,
কুয়াশা- সে ঘাসের বুকেই শুয়ে

ভাবছো, তুমি এইভাবে পার পাবে?
হিমালয়ে দিচ্ছো মেঘের বাধা?
তার শিখরে মেঘ যে মিলে যাবে,
কান্না হয়ে সাজাবে রূপকথা

ছুটবে তুমি, উড়বে তুমি, উড়ো,
ভাবনা আমার ছুটবে তোমার সাথে,
হারিয়ে যাবার ভান যতই করো,
পথ হারিয়ে ছুটবে আমার পথে

হাসছো তুমি, ভাসছো তুমি বেশ-
বিস্মরণের ধূসর অন্ধকারে,
আমার বুকের দীপ্তস্মৃতির রেশ-
তাকিয়ে দেখো জ্বলছে চারিধারে

বৃত্তের বুকে সময় ঘুরে আসে,
শুরু যেথায় শেষও সেথায় মেলে,
উড়বে তুমি, ঘুরবে তুমি, ঘোরো-
দেখবে শেষে সেই আমাকেই পেলে

Sunday, June 4, 2017

বিলীন





বহুদিন, বহুদিন পর;
নিশ্চুপ সময়ের কেটে গেছে কতটা বছর-
তারও আগে, কোন এক আদিম সময়ে,
প্রাণ পেয়েছিলো প্রাণ;
মৌনতা ছিলো মুখরিত-
প্রাচীন সে শহরের ধূলো-বালু-দেয়ালের গায়ে।


বহুদিন আগে সে সময়ে-
আলোর ঝর্ণা ছিলো, শিশিরের বুকে রংধনু,
কুয়াশায় শ্বাস ছিলো, আজ তারা স্থানু-
শীতের নিশুতি জাগা ঝি ঝি পোকা, তারার মত,
তারা আজ মৃত;
বিভাবরী বয়ে চলে অতি দূর সানাইয়ের সুরে-
বিলীন প্রহরে,
তারাও হারিয়ে যায়- গোধূলীর হাতে হাত রেখে,
কারুকাজ খসে পড়ে বিস্মৃতির শুকনো পালকে,
রংহীন-প্রাণহীন-নিস্প্রাণ শোকে- যথারিতী,
মৃতের জগতে ভাসে ভুলে যাওয়া প্রাণের আরতি।


প্রাচীনা, তুমিও লীন, অতীতের রং মেখে গায়ে-
চির নতজানু হয়ে স্থির কোন সময়ের পায়ে।
চারপাশে চাঁদোয়ার নীল নিয়ে বিস্মিত ভ্রম,
চারপাশে রাতের অহম,
চারপাশে নীরবতা,
গ্রাস করে আগ্রাসী মানুষের চোখ
তাদের সকল কথা,
ভালোবাসা, ভালোলাগা, সুর, কথকতা,
হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা শব্দের ঘর,
কোলাহলে মুখরিত জীবনের হাজার বছর।

সুপ্রাচীনা, হারিয়েছো, ধোয়াশায় ধূসর সময়ে,
দিকহারা যাত্রীর হতাশায় ক্লান্ত দু’পায়ে-
তোমার চিহ্ন রেখে;
বহুদিন প্রত্যাশা ভাঙ্গা শত বৃথা অভিমানে,
হিমালয় জমে আছে যেই সব মানুষের মনে
তাদের অশ্রু করে তোমার পথের সম্বল-
চলে গেছো সুপ্রাচীনা;
আমাদের মতো কেউ নেই- যে সময়ে, যেখানে।