Showing posts with label কুঠার. Show all posts
Showing posts with label কুঠার. Show all posts

Sunday, November 12, 2023

নেতা এসেছেন!! (২)

 

চারদিকে বেজে উঠেছে কীসের ডঙ্কা! কেন কেঁপে উঠে ভোলগা থেকে গঙ্গা। কেন জাগে মন, কেন জাগে স্পন্দন- নেতা এসেছেন, ভেঙে দিতে যত শঙ্কা! বহুযুগ কেড়ে নিয়ে গেছে রাজতন্ত্রে পশ্চিমাদের গণ বা সমাজতন্ত্রে, শাসনে শোষণে হয়ে গেছি আজ নিঃস্ব, স্বার্থের ঘরে ধুঁয়ো দেয়া ষড়যন্ত্রে। ভুয়া শাসনের শোষণের এই বন্ধন, এনেছে দুঃখ, দিয়েছে কেবল ক্রন্দন, ‘মানবতা’ আজ বইয়ের পাতার ইতিহাস, প্রবোধবাক্য শুনতে শ্রতিনন্দন। এসেছে নতুন বিপ্লব- ডাক মুক্তির, এসেছেন নেতা - আলো হাতে মহাশক্তির, আঁধারের ঘোর কাটবে হাতের হাতিয়ার, আগুন জ্বলবে জ্বালাময়ী গান মুক্তির। ফুঁসেছে সময়, বিপ্লব জাগে চেতনায়, দুঃসময়কে ধ্বংসের চির-বাসনায়, নেতা এসেছেন- নিয়ে শান্তির পয়গাম, ক্লিষ্ট মানবে নিতে মুক্তির মোহনায়।

নেতা এসেছেন! (১)

 


আকাশ ছিলো রক্তিম শুধু কান্নায়, হাহাকারে, মানবতা! সে তো বন্দী যুগের জুলুমের কারাগারে। মুক্তিপাগল জনতার ক্ষোভ, ডেকে এনেছে নয়া-বিপ্লব, ডেকে এনেছে মুক্তির দূত, নিরাশার প্রান্তরে- শত বছরের দুঃখ ঘোচাতে নেতা এসেছেন দ্বারে।।



পূবে-পশ্চিমে, নগরে ও গ্রামে - যত মানুষের প্রাণ, চেয়েছে মুক্তিদাতা যে হবেন- সে নেতার উত্থান। মুক্তি দেয়নি সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্রও গত- মুক্তি পায়নি মানবতা গায়ে গণতন্ত্রের ক্ষত। শান্তি আসেনি, ব্যর্থ হয়ে হয়েছে অতীতের বলিদান- নেতা এসেছেন হাতে নিয়ে দিগ্ বিজয়ের ফরমান। মৃতের মতন বেঁচে থাকা যত মানুষের হাত ধরে নেতা এসেছেন- তুলে নিতে ফের জীবনের বন্দরে- ক্রন্দনরত যত মৃতপ্রায় ফিরে যাবে মুক্তির মোহনায় বিপ্লবী হয়ে উঠবে সময়- অসময় পার করে, নেতা এসেছেন জাগাতে জগৎ নতুন ইশতেহারে।

Sunday, April 4, 2021

হ্যানিমান আসলেন!

মানুষ মরছে ধুঁকে, রোগে-শোকে ত্রাসে

দিশেহারা ধরণীটা মুক্তি পিয়াসে-

সে সময়ই হ্যানিমান আসলেন;

রক্তিম পৃথিবীতে রোগের আধার

রুখতে এলেন নিয়ে মেধা ক্ষুরধার

সত্যকে শুধু ভালোবাসলেন!

 

আরোগ্য-নীতি এলো তাঁর হাত ধরে

চিরদিনই ঢাকা ছিলো যুগের আঁধারে।

রোগতত্ত্ব পেলো যৌক্তিকতার রূপ-

সিমিলিয়া দিয়ে রোগ নাশলেন!

এ কাজেই হ্যানিমান আসলেন!!

 

কিন্তু কী নিদারুণ দুর্ভোগ!

সত্য প্রকাশে মেনে অসহ্য নিপীড়ণ,

সংগ্রামী শির উঁচু রাখলেন-

অযোগ্য করে তাঁকে বিচারের প্রহসন,

যোগ্যতা দিয়ে তাকে ঢাকলেন।

 




আজকে আবার সেই চির হাহাকার

সত্যকে অবহেলা করার বিচার-

রোগের রাজত্বকে থামাতে চাইলে মানো-

যে সত্যে তিনি ভাসলেন!

যে সত্যকে নিয়ে আসলেন!!!


Tuesday, February 23, 2021

সময় এসেছে

 

সময় হয়নি এখনো কি তবে, এখনো কি রাত বাকী!

শত শত যুগ আঁধারে কেটেছে, রাত্রি ফুরোবে না কি?

অবিচারে কাঁদে পৃথিবীর ধূলো,

অশুভের ছায়া বড় জমকালো

তন্দ্রার ঘোরে চেতনারা সব মৃত্যুর মুখোমুখি,

শত বছরের জঞ্জাল আরো বয়ে যেতে হবে নাকি?

 


সত্যের বাণী ম্লান হয়ে আছে মিথ্যের বেসাতিতে

বহু অশ্রু বয়েই চলেছে চড়া দামটুকু দিতে,

ধর্মের বাণী গল্পকথায়,

পেটপূজকের জাল ফতোয়ায়,

আটকে রয়েছে, গা ভাসিয়েছে- ব্যবসার ধারাপাতে,

শান্তির আজ কবর সাজানো ধ্বজাধারীদের হাতে।

 

ভন্ড শকুনে ছেয়ে আছে এই পৃথিবীর প্রান্তর,

মানুষ মরবে, লাশ-উৎসবে মাতবে এ চরাচর-

ভন্ড এবং গোরখাদকেরা,

গড়েছে নিঠুর বিভেদের বেড়া

তারে কাটাতারে বন্দী করেছে মুক্তিকে বরাবর,

মানুষকে খাবে- ভাগাভাগি তার চলছে নিরন্তর।

 

হাতে হাত রেখে গ্রাস করে চলে যুগের হাঙর আজ

তন্ত্র-মন্ত্র, বিধানের ঢালে হায়েনার এ সমাজ

শোষিত সকল মানুষের কানে,

মিথ্যে আশার সান্তনা টেনে,

যথারীতি চলে- রক্তের ধারা শোষণের কারুকাজ,

সাধু বেশে এই রাত্রিতে একা শয়তান অধিরাজ।

 

এখনো কি তবু ঘুমিয়েই রবো, চেতনা জাগবে কবে!

রাত পাড়ি দেয়া যোদ্ধার চোখ এখুনি মেলতে হবে।

অশ্রু, রক্ত- এই অপচয়

আর এক ফোঁটা আমাদের নয়,

সত্যের আলো ফুটবেই এই চলমান বিপ্লবে,

সুদিনের আলো এবার আবার ধরার ধূলিকে ছোবে।

 

দাঁড়িয়েছে আজ শত মুজাহিদ সময়ের দ্বারে এসে,

সব অন্যায়, আবর্জনা- যাবে এই স্রোতে ভেসে,

আসবে শান্তি ন্যায়ের বিধান

ঘুচে যাবে সব বাঁধা ব্যবধান

তাওহীদ রবে, আঁধারের বুকে সূর্য উঠবে হেসে,

মানুষ বাঁচবে, জীবনকে আর মানুষকে ভালোবেসে।


Tuesday, March 12, 2019

ঠুঁলি বাঁধা চোখ















সময় কাঁদছে- বুকে তার ক্ষত,
জীবন চলছে তবু প্রথামত,
রীতিমতো মরে- ঘরে ও ভাগারে, মরবার কথা যার।
আমি তুমি হাসি, সকাল সন্ধ্যে-
ভালোবাসাবাসি করি আনন্দে,
ধর্ষিতা হয়ে মৃত্যুটা লেখা ফাতেমার, সুফিয়ার।

ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা পড়ি,
মূল্যবোধের বোধে সুড়সুড়ি,
তারপরে এই আবাল পৃথিবী সংবাদে রাখি গুঁজে।
দুপুরে টিফিনে কোর্মা পোলাও,
পেঁয়াজের সাথে শসাদুটো নাও,
উদ্বাস্তুর কান্না- না যেন ভেসে আসে ভুরিভোজে।

খাবো, দাবো আর বগল বাজাবো
চোখে, জিভে শুধু লালসা সাজাবো,
বানীতে গেঁজাবো- শ্রমঅধিকার, নারীদের অধিকার।
ধর্মের নামে দিয়ে যাবো ফাঁকি-
আতরে লেবাসে করে মাখামাখি,
এমন হুজুরে ভন্ডামি বলে সাধ্য কি স্রষ্টার!

নীতিকথা দিয়ে ছোটাবো ফোয়ারা,
আমদানি রবে বাঁশ আনকোরা,
চিন্তায় রবে- কোথায় কখন গুজবো সুযোগ-সই।
আমি সন্ন্যাসী, উদাসীন মন-
স্বার্থপরেরা কি বলে কখন,
সেই কথাগুলো ভাববার মতো অবসর থাকে কৈ?

দেশ ভেসে যাক- কিবা আসে যায়?
আমার ব্যালেন্স করেছি বিদায়-
টাকা-কড়ি বাড়ি, সব আছে জমা পেয়ারের সুইডেনে।
মানুষ ভাসছে গৃহহীন তারা,
বড় বিচ্ছিরি তাদের চেহারা,
বড় বেশি খায়- অযথা হাঁপায়, রোগে শোকে ক্রন্দনে।

ক্ষুধা নিয়ে তারা কত শোকাহত,
না খেয়ে কভু কেউ মরেনি তো!
তোদের খাবার মেরেই করেছি আলিশান পথঘাট।
আমার প্রাসাদে তোদেরই তো ঘাম-
এতেই সাজবে তোদের সুনাম।
আরো ভুখা থাক, সোনা দিয়ে গড়ি আমাদের তল্লাট।

সময় কাঁদছে- যুগের অসুখে,
তাতে আর কেন মরি মাথা ঠুকে!
দ্রৌপদীর শাড়ি খুলবেই এই যুগের দুর্যোধন।
পান্ডব সব ঘুমিয়েই থাকো-
এখনো জাগার ক্ষণ হয়নিকো,
নয় বড়জোর আমাদের মতো শাড়ি টানো প্রাণপণ।

ইশতেহার














নতুন ইশতেহার-
মানুষ জাগছে, সময় হয়েছে ঘুম থেকে উঠবার।

দু:স্বপ্নের রাতটা গভীর, আঁধার ভীষণ কালো,
ভোর হবে জানি, সূর্য উঠার সময় এবার হলো,
মানবতা আজ বুঝে নেবে তার নিজের যা অধিকার।
মানুষ জাগছে, সময় হয়েছে ঘুম থেকে উঠবার।

মশাল জ্বেলেছি আমরা ক’জন
আঁধারের সীমানাতে-
সুর্যকে পথ দেখাবো, তাকেও
বেঁধে নেবো নিশানাতে।

দুর্দশা মোড়া মৃত পৃথিবীতে এবার আসবে প্রাণ,
নিপীড়িত যত মানুষ শুনবে মানুষের জয়গান,
এই বিপ্লবে ভেসে সব শোষণের কারাগার।
মানুষ জাগছে, সময় হয়েছে ঘুম থেকে উঠবার।

আমিই আন্দোলন















জীর্ণ পৃথিবী- তারস্বরে কাঁদে, বিক্ষোভে কাঁদে মন
সময়ের দ্বারে দাঁড়িয়ে বলছি- আমিই আন্দোলন।

ছুটে যাবো এই অনিয়ম ভেঙ্গে, টুটে দিতে কালো হাত
আমার বজ্রমুষ্ঠির থাবা- পথ খোঁজে দিনরাত
দূর করবে সে শোষণ, শাসন- বিভেদের বন্ধন।
সময়ের দ্বারে দাঁড়িয়ে বলছি- আমিই আন্দোলন।


ঘরে ঘরে আজ হাহাকার শুনি
মৃত্যু কেবল করে কানাকানি
তন্ত্রে-মন্ত্রে বাঁধা পড়ে আছে
অসহায় যত মানুষের ধ্বণি।

আজকে কেবল ঘোষনায় রবে বঞ্চিত যত প্রাণ
ক্ষুব্ধ হৃদয় প্রশ্ন ছুড়বে, মনে রেখে অপমান
নিশানা তুলেছি মাথা উচু করে, ফিরে পেতে সেই ক্ষণ।
সময়ের দ্বারে দাঁড়িয়ে বলছি- আমিই আন্দোলন।

সম্মুখে পথ
















সম্মুখে সেই পথ,
যে পথ বোঝেনা- সহজে হাঁটার সামান্য ফুসরৎ;
যে পথে চলে না, একটু থামা- নিজেকেই সম্ভোগ,
যে পথ মড়কে ঢাকেনি যুগের রোগ।
অনিয়ম এই প্রশস্ততায় ধীরে ধীরে পথচলা,
সময়ের রাহু গ্রাস করা এই আঁধারটা নির্জলা।
ঘরে ঘরে আজ নিপীড়নে-মৃত নতজানু ভেজাচোখ,
অশ্রু মোছাতে ছুটে চলো- তবে আজ প্রতিবাদ হোক।
গর্জন আনো ঢেকে সাহারার সাইমুম, সাইক্লোন
বৈশাখী হোক শ্রাবণের ভেজা মন।


ঝিমাবে এখনো ঘরে বসে তুমি, থাকবে কি চুপ করে?
আরো কোটি প্রাণ ঝিমায় অন্ধকারে।
দুই হাত তুলে মুক্তিকে খোঁজে, প্লাবিত চোখের পাতা,
ডাকছে- “এসো হে, আমার মুক্তিদাতা”।
তারা বসে আছে, তুমিই আসবে-
ভাবছে প্রাণের তাপে,
মুক্তি আনবে এ মৃত্যুর অভিশাপে।
তারা বসে আছে, দেখবে তোমার বজ্রবাহুর জোরে-
সূর্যকে টেনে আনছো রাতের পরে;
আগুন জ্বালাবে শীতল-কাতর মুমূর্ষু পৃথিবীতে,
আগুন জ্বালাবে রক্তের পরিধিতে।


তারপরও রবে বসে?
নির্জীবতার ভ্রুকুটিকে সয়ে নিয়তির অভিলাষে।
নিয়তিতে ভেসে গেছে এতদিন মানুষের সম্মান,
নিয়তিতে ভাসে শত-কোটি মৃত প্রাণ,
তারাও চেয়েছে সুদিন আসবে, শান্তির ছায়া পাবে,
মুক্তি মিলবে নিয়তির বিপ্লবে।
চেয়ে থেকে শুধু কেটেছে সময়, নিস্ফল কালগুণে-
ভাগ্যবিধাতা হেসেছেন আনমনে,
পরিহাসে তিনি বলেছেন “আরে, বোকার হদ্দ সব,
তুই-ই তো নিয়তি, তুই নিজে বিপ্লব।
স্রোতের জোয়ারে জাহাজ ভাসিয়ে সীমানার খোঁজ নিতে,
আমি তো তোকে পাঠাইনি পৃথিবীতে!


মগজে দিয়েছি চেতনার বীজ, হৃদয় দিয়েছি- মন,
প্রতিকূলে তুই হাল ধর প্রাণপণ।
শোষণ, বিভেদ, অন্যায় মাখা দুস্থ এ বারিধীতে,
দুর্জয় তোর প্রত্যয়- যেন টলে নাকো কোনোমতে।
ছোটে যেন তোর রক্তে তুফান, বাতাসের ঝঞ্জায়-
তোর ছাপ থাক প্রতিটি ঢেউয়ের গায়।
সবকিছু ফেলে ছুটে আয় এই প্রতিকূলতাকে ঠেলে,
কোনকিছু নেই আয়েশের অঞ্চলে।
সব ত্যাগ করে ছুটে আয় তবে- সব হারাবার দেশে,
আমাকেই পাবি সবকিছু অবশেষে।
পৃথিবীটা পাবে ডাঙ্গার খোঁজ, নিয়তির খোলা দ্বার,
বন্ধন সব করে ফেল চুরমার”।


সম্মুখের আহ্বান,
মেনে নেবে নাতো এক মুহূর্ত থামবার অপমান।
সে চায় রক্ত, সে চায় জীবন, সে চায় তিক্ত ঘাম,
ভোলাতে ক্ষুদ্র-স্বস্থির সংগ্রাম।
সে চায় দু’চোখ সদাজাগ্রত, সদাসতর্ক মন
সে চায় গতি, ছুটে চলা প্রতিক্ষণ।
প্রতি মুহূর্ত সংগ্রাম, আর স্বচ্ছ পুরুষকার-
দুর্বলতার মৃত্যুতে ভেট তার।
এখন তোমার নয়তো সময় চোখ নিচু করে চলা,
তন্দ্রার নেই অবসর এই বেলা;
জেগে উঠো, ছোটো, প্রতিজ্ঞাতে মুষ্ঠিটা দৃঢ় করে-
শান্তি আনতে, জীবন আনতে শীতল এই প্রান্তরে।

Monday, November 19, 2018

হায়রে মুসলমান














রাসুলের ডাক কে শুনে আর করবে জীবন দান
হায়রে মুসলমান।

ত্যাগের চিন্তা ভোগের ফাঁদে,
দিনে রাতে যাচ্ছে কেঁদে,
দেওয়ার কথা উঠলে দেয় আজ রাসুলকে কোরবান।

জীবন দিয়ে, সম্পদ দিয়ে শান্তি আনতে চেয়ে-
সংগ্রাম ছিলো রাসুলের, সেটা ভুলে গেছি কি উপায়ে?

আজকে কেবল জীবন জুড়ে স্বার্থের জয়গান
ভোগ লালসায় মজ্জিত সব পরগাছা শয়তান।
হায়রে মুসলমান।

খুব মজে আছি নামায রোজায়
(আর) নিজের পেটটা ভরার পূজায়
ইসলাম খুঁজি অক্ষরে শুধু, বলি দিয়ে বলিদান।

Friday, August 31, 2018

আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে
















আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে,
আর কাল টেনে- ভুল পথপাণে,
দিন কাটবে না স্রেফ ক্রন্দনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।

তাই, দুই চোখে আজ ছুটবে আগুন উচ্ছাসে,
পুড়বে যত স্বার্থ-বিধান, নতুন যুগের উদ্ভাসে।

ভাঙ্গবে বিভেদ, সীমার বেড়া,
অত্যাচারী শোষক যারা;
পুড়বে তাদের পাপের চিতায়, নিজের বোঝার বন্ধনে।
তার অত্যাচারের গান শুনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।

আজ ধর্ম কাঁদে যন্ত্রনাতে,
নিজেই সে আজ ভীষন ফাঁদে,
ব্যবসা আর রাজনীতিতে, বিকোয় এখন-
খোদার বিধান, হয় পরিমাণ, তুচ্ছ টাকার লেনদেনে।
আজ মানুষ মরে সংঘাতে,
সব ভণ্ডরা পায় ভাত তাতে,
আর লক্ষ মায়ের কান্না ভাসে, তাদের প্রাসাদ প্রাঙ্গনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।

আজ দেশটা ভাসে তন্ত্র ধরে,
মানুষ মরে অন্ধকারে,
ক্ষুধার জ্বালায় প্রাণ চলে যায় শান্তি খোঁজে কোনখানে?
যায় জীবন বৃথাই সন্ধ্যানে;
আর ভোট দিয়ে হয় মানুষ গোনা, মানুষ মরে দিন গুনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।

আজ ভন্ডরা সব ভেক ধরে,
যায় দেশ জাতি সব উদ্ধারে,
কারোর কেবল চাই ক্ষমতা, কেউ বা সেথা-
ভীষণ ভীষণ টাইটেল দিয়ে নাম টানে,
তারা নিজের পেটই ভরছে কেবল, শুষছে এ দেশ আনমনে।
সবাই আছে মিথ্যে মজে,
ভন্ডদের এই গুঞ্জনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।

আজ জাগবো যত ছন্নছাড়া,
ক্ষুণ্নহৃদয়, সর্বহারা,
যাদের হৃদয় নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে-
শান্তি আনার গান জানে।
আজ ধরবো বাজি, মরতে রাজি,
শান্তি আনার পণ মেনে-
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।

আজ মুক্তি পাবে সহস্র প্রাণ,
মুক্ত হয়ে ছুটবে আযান,
যেখানে যে নিপীড়িত, দগ্ধাহত-
উৎপীড়কের গুণ টেনে;
তাই ভাঙ্গবো মানুষ মারার বিধান, নতুন যুগের উত্থানে।
সব ভন্ডদের আজ খুলবো মুখোশ, শুদ্ধ প্রাণের দিন চিনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।


(এই লেখাটি কাজী নজরুল ইসলামের আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে" কবিতাটির ছন্দকে হুবহু অনুসরণ করে লেখা হয়েছে। ছন্দের একটা এক্সপেরিমেন্ট বলা যায় আর কি। )

Tuesday, August 14, 2018

সত্যযুগ












আমরা এসেছি শত দল সেনা নতুন পৃথিবী গড়তে আমরা এসেছি দিক দিগন্ত আনন্দময় করতে। আছে শিরে সদা সত্যের তাজ তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দুরন্ত বাজ ধরার ধূলিতে নামাবো স্বর্গ সঁপি জান নিঃশর্তে। সকল ধেয়ান প্রাণ ধন মান দিয়ে গাই মানুষের জয়গান বুকে প্রত্যয় সুদৃঢ় মহান নব্যযুগ রবি আনতে। রুখে দেবো আজ যত অবিচার অপশক্তিরে করে সংহার যাব আগামীতে ছুটে দুর্বার সত্যযুগের প্রান্তে।


এই গানটি আমার এবং বন্ধু রিয়াদুল হাসানের যৌথভাবে লেখা।

Wednesday, August 1, 2018

ওঠো, অনাগত









হাতে হাত রাখো, চলো চিনে নিই, এই সময়ের দাবী,
তুমি ফেলো পা, উঠবে সূর্য- অনাগত বিপ্লবী।

দেখো এ সময়, চোখে তার ভয়
প্রাণে তার ক্রন্দন,
অবিচারে, আর শোষনে মরছে
শত কোটি ভীরু মন,
অবহেলা আর বঞ্চনা নিয়ে পৃথিবী আঁকছে ছবি-
তুমি ফেলো পা, উঠবে সূর্য- অনাগত বিপ্লবী।

চেয়ে দেখো আজ চির হাহাকার, ধূলোয়-বাতাসে ভাসে,
সকাল-সন্ধ্যে যুগের মাশুল, অভিশাপ নেমে আসে,
ক্ষয় হয় প্রাণ, যার সাধ ছিলো অবিরত বেঁচে থাকা-
পদে পদে আজ লাঞ্চিত তারা- অতীতের পরিহাসে।

দেখো এ সময়, কারো চেনা নয়
বুকে তার অবহেলা,
একবার শুধু জেগে উঠো প্রাণ
এবার হয়েছে বেলা,
দু:সময়কে দূর করে আঁকি, সুদিনের প্রতিচ্ছবি-
তুমি ফেলো পা, উঠবে সূর্য- অনাগত বিপ্লবী।

Sunday, July 22, 2018

হুজুর-মূর্খ কথোপকথন - ২















মূর্খ:
হুজুর, বান্দা হাজির, রাখুন কদম পাকের নিচে
মনের যত আরজ গুজার, সবই আপনার কাছে্।
কিছুদিন হলো, বেয়াদব মনে
ক্যাত-কোৎ করে ক্ষণে কু-ক্ষণে
এককথা ভেবে শুয়ে পড়ে যেই, আর কথা ভেবে নাচে
হুজুরের জ্ঞান-পরশ পেলে তবেই হৃদয় বাঁচে।

হুজুর:
আরে মিয়া কথা তারাতারি কও, সময়ের বড় তাড়া-
ওয়াজের এক শিডিউল দিছি, বড়-মালঞ্চ পাড়া।
সেখানে ছুটছি তড়িঘড়ি করে,
কাঁচা টাকা কিছু আসবে এ ঘরে,
তার সাথে হবে ভোটের আবাদ, যদি তারা দেয় সাড়া;
সম্মুখ থেকে সরলেই সব, ঘাড় করে রাখে ত্যাঁড়া।

মূর্খগুলোরে এতই বোঝাই, ডেকে ডেকে হাঁক পেড়ে
লেবাসের উপর ভোটের ছাপটা মেরে দিস খুব করে।
কিন্তু ব্যাটারা বদের গাট্টি,
শেষে দেখা যায় গুছিয়ে চাট্টি,
কাফেরের ছাপে ভোট মেরে আসে, সকল শ্রমের পরে;
ভোটের ব্যালট গনণার কালে কপালে কুংফু মারে।

মূর্খ:
হুজুর, এটা তো ভীষণ আজব, ইসলামের এই দেশে,
কোটি কোটি জন নামাজ পড়ছে রাসুলকে ভালোবেসে।
তারপরও তারা ভোটের সময়,
ছুড়ে ফেলে দিয়ে সব ডরভয়,
ইসলাম ছেড়ে এধারে ওধারে ভোট কেন মেরে আসে?
সেইক্ষণে কেন হুজুগের দল, ছুটছে অন্য পাশে!

হুযুর:
আরে বোঝো নাই, ইসলাম হলে- সব হবে ইসলামি,
দুর্নীতিহীন বিধানের কাছে, ভেঙ্গে যাবে আঁতলামি।
সমাজ, রাষ্ট্র, পাড়া, মহল্লা,
সবকিছুরেই চালাবে আল্লাহ,
ফাঁকিবাজি আর বেঈমানি সব শুণ্যেতে যাবে নামি;
এই কারণেই অপরাধী সব করতেছে ইতরামি।

কিন্তু দেখরে কতটা মূর্খ, এই আবালের দল,
এত বড় এক ইবাদত তারা করে নাই সম্বল।
রাসূলের কালে কত না আঘাতে,
কতখানি ত্যাগে, প্রাণ প্রণিপাতে,
ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতরিয়ে কত, ইসলামে আনে বল;
চোখের অশ্রু বাঁধ মানছেনা, প্রাণ হয় বিহ্বল।

আজকে কত সহজেই দেবো ইসলাম তোর ঘরে,
শুধুই একটা ভোটই তো দিবি- আল্লাহর নাম করে,
লাগবে না সওয়া সে নির্যাতন,
সেই প্রচেষ্টা, সেই ক্রন্দন,
সেই বোকামির কি প্রয়োজন? ব্যালট জিহাদ করে-
বেহেশতটার টিকিট কাটবি, লেবাসেই ভোট মেরে।

মূর্খ:
হুজুর, তাইলে প্রশ্ন একটা- করে দেন তার গতি,
শত বছরের উপরে চলছে ধর্মের রাজনীতি,
অনেক দেশেই পেয়েছেন জয়,
সমর্থনে হয়ে নির্ভয়-
ক্ষমতায় যেতে পারে নাই, ফের পেয়েছে সে দুর্গতি;
সঠিক পথটা হলে আল্লাহর কেন এ ভিন্নমতি?

হুযুর:
তাদের কথা বলেই কি হবে, ওদের ভ্রান্ত পথ
বাইরে লেবাস যতই থাকুক, ভেতরে অন্য মত।
ইসলামি নামে সুবাস তুলে,
ভোটগুলো তারা খেলো প্রাণখুলে,
কিন্তু আল্লাহ ঠিকই তো জানেন, তাদের কি কু-নিয়্যত;
সেই কারণেই বন্ধ তাদের দলের ভবিষ্যত।

আমরা ভালো, আমরা মহান, আমরা সঠিক দল,
ইসলামে মোরা পূর্ণ করবো কাফেরের অঞ্চল।
আমাদের শুধু ভোট দিয়ে যা,
তারপর খালি দেখবি মজা,
এক ফুৎকারের কাফেররা সব হয়ে যাবে হীনবল;
ইসলাম, খালি ইসলাম; আহা, এবার “আমিন” বল।

মূর্খ:
“আমিন”, হুজুর, কিন্তু একটা প্রশ্ন মনের মাঝে,
ক্যাঁও ক্যাঁও কোঁকাচ্ছে, আর কাঁটার মতোই বাজে,
ইসলাম এক জীবনবিধান,
স্বতন্ত্র্য এক পথসন্ধ্যান,
ভোটে উঠলে তো ফের ডুববেন গণতন্ত্রের সাজে;
মিল কি করে রাখবেন হেথা, কথায় এবং কাজে?

গণতন্ত্রতো রাষ্ট্রবিধান, ভোট পাড়ি দিয়ে গেলে,
ব্যবস্থাটাকে ছুঁড়ে ফেলবার অধিকার কভু মেলে?
যাই-ই করবেন তার বিধানে-
চলতেই হবে ইসলাম জ্ঞানে,
আপনি তখন বিধাতা তো নন, নিজেই যে তার কোলে;
তাইতো ক্ষমতা পাননি- পেলেও থাকেনি তা সু-দখলে।

হুযুর:
“কাফের! কাফের! কুফরি প্রশ্ন!” এত তোর কু-সাহস?!!!
আমার মতোন আলেমের সাথে করছিস এ বাহাস?
এই চিন্তা কি তোর করা লাগে?
ভাবিনা কি এটা মোরা তোর আগে?
আলেম ওলামা আমরা সকলে কাটছি মাঠের ঘাস?
গলা ফাঁক করে, পেট্রোলে দিলে বুঝবি, হে বদমাস।

তওবা কর, হে মূর্খ- মাথায় এই চিন্তাটা আসায়,
দ্বীন-দুনিয়ার কি যে ক্ষতি হবে, বুঝবিনা তুই ভাষায়।
আখেরাত তোর হবে ছাড়খার,
আমাদের হাতে হবি জেরবার,
তার চেয়ে শুধু ভোট দিয়ে যা, ইসলামি পরিভাষায়;
আর বসে থাক ইসলাম ঘরে আসবে সেটার আশায়।

মূর্খ:
হুজুর, হয়েছে গোস্তাখি- মাফ চাইছি তা সবিনয়ে,
তারপরও এক প্রশ্ন থাকছে, মোবারক দুই পায়ে,
নিবন্ধনের শপথনামায়
আনুগত্যের নিয়েছেন দায়
রাষ্ট্রবিধান মেনে চলবার, গণতন্ত্রের ছায়ে;
নিবন্ধণের শপথ খানারে ভাঙ্গবেন কি উপায়ে?

ভেতরের কথা, বাইরের কথা দুই রকমের হলে-
মনে পড়ছেনা ঠিকমতো, তাকে আলেমরা কি যেন বলে?
যাই হোক, যদি শপথ মানেন,
তাইলে যে কথা ওয়াজে টানেন,
সেই কথাটাই থাকবে কিভাবে, ক্ষমতা দখলে গেলে?
দুই রকমের চেহারা হবেই, এই ঘোর কলিকালে।

হুযুর:
ওরে বদমাশ, মূর্খ, দালাল এ কাফের সরকারের-
জানা নেই তোর কতটা ধার এই ফতোয়ার তলোয়ারের?
স্পর্ধা দেখাস মুনাফেক বলে!
পরে বলিস না রগ কাটা গেলে-
তোকে সাবধান করিনিকো আমি, নতুন ক্ষুরের ধারের;

আর অভিশাপে পুরো করে রাখা ইহকালে-পরকালের।