Wednesday, August 1, 2018

আশ্বাস



















যখন আঁধার গ্রাস করে নেয় জীবনের কোলাহল,
নেমে আসে রাত, হতাশায় ঘেরা হৃদয়ের অঞ্চল,
তখনও হয়তো একখানা হাত,
জানায় সমুখে আলোক-প্রভাত,
একটি রশ্মি ধ্রুবতারা যেনো, থাকে সদা-উজ্জ্বল;
সুর ফিরে পায়- থেমে যাওয়া সব জীবনের কোলাহল।

ভাঙ্গা-গড়া নিয়ে ক্লান্ত যখন, হৃদয়ের তটভূমি-
উত্তাল স্রোতে- তাল-লয়হীন ত্রাসে ভেঙ্গে পড়া জমি,
তখনও হয়তো একখানি মুখ,
আশ্বাস নিয়ে থাকে উন্মুখ,
ঠাঁই হয়ে শেষে ধরা দেয় বুকে, নত মস্তক চুমি;
সজল দ্বীপের আশ্বাস পায়, হৃদয়ের তটভূমি।

ক্লান্তি যখন বন্ধুর পথে- স্তব্ধতা ভর করে,
চোরাবালি মাখা মরুভূমি এই জীবনের প্রান্তরে,
তখ্খনও সাথে দু’ইটি চরণ,
পাশে থেকে করে পথকে বরণ,
নিবিড় হাতের স্পর্শেই ভাঙ্গে বদ্ধ রূদ্ধতারে;
প্রাণ নিয়ে আসে প্রাণেতে যখন স্তব্ধতা ভর করে।

অচেনা দ্বিধার কষাঘাতে যেই স্বপ্নের জেরবার,
আশাহত হয়- শক্তি হারায়, মুখ তুলে চাইবার,
তখনও তো জানি এমন আঁধারে,
ভালোবাসা নিয়ে হৃদয়ের দ্বারে,
আলোর মশাল জ্বালায়, সে ডাকে- সম্মুখে এগুবার,
নতুন স্বপ্ন এঁকে দেয়, যেই স্বপ্নের জেরবার।

নতুন ঠিকানা
















এসো এই অসময়ে
একটি ঠিকানা গড়ে তুলি চির-শান্তির প্রত্যয়ে।

ভালবাসাটায় উচ্ছাস রবে, সীমাহীন পরিধিতে-
সাগর হারাবে তার বিশালতা আমাদের প্রাণ ছুঁতে;
চাঁদ চেয়ে রবে অবাক- নীরবে,
তার আলো জেনো ম্লান হয়ে রবে,
হৃদয়ের সব আঁধার কাটবে, প্রেমের স্পর্শ পেয়ে-
এসো এই অসময়ে।

ধূসর পৃথিবী, ধূসর সময়,
সবাই তো একা, কেউ কারো নয়,
এখানেই চলো, জাগাই স্বপ্ন- বর্ণিল কারুকাজে,
ভালোবাসা নিয়ে মানুষ সাজবে- সকালে, দুপুরে, সাঁঝে।

থাকবে কেবল পূর্ণ হৃদয়ে বিস্মিত চেয়ে থাকা,
শূন্যতা হবে অতীত-বিলাস, নীলিমাতে ঢেকে রাখা;
ভ্রান্তি ও মোহ এই সময়ের,
অবসর পাবে অসীম কালের,
পৃথিবীর বুকে বেঁচে রবে প্রাণ নতুন এই পরিচয়ে-
এসো এই অসময়ে।

ওঠো, অনাগত









হাতে হাত রাখো, চলো চিনে নিই, এই সময়ের দাবী,
তুমি ফেলো পা, উঠবে সূর্য- অনাগত বিপ্লবী।

দেখো এ সময়, চোখে তার ভয়
প্রাণে তার ক্রন্দন,
অবিচারে, আর শোষনে মরছে
শত কোটি ভীরু মন,
অবহেলা আর বঞ্চনা নিয়ে পৃথিবী আঁকছে ছবি-
তুমি ফেলো পা, উঠবে সূর্য- অনাগত বিপ্লবী।

চেয়ে দেখো আজ চির হাহাকার, ধূলোয়-বাতাসে ভাসে,
সকাল-সন্ধ্যে যুগের মাশুল, অভিশাপ নেমে আসে,
ক্ষয় হয় প্রাণ, যার সাধ ছিলো অবিরত বেঁচে থাকা-
পদে পদে আজ লাঞ্চিত তারা- অতীতের পরিহাসে।

দেখো এ সময়, কারো চেনা নয়
বুকে তার অবহেলা,
একবার শুধু জেগে উঠো প্রাণ
এবার হয়েছে বেলা,
দু:সময়কে দূর করে আঁকি, সুদিনের প্রতিচ্ছবি-
তুমি ফেলো পা, উঠবে সূর্য- অনাগত বিপ্লবী।

অবসান















আর অবকাশ নেই চলো উঠি-
কেটে গেছে বেলা, করে ছেলেখেলা, বসে থেকে পরিপাটি।

কেটেছে সময় হাসি আর গানে,
ভুলে থেকে মোহে, আপনার মনে,
ভ্রমের সৌধ গড়েছি গোপনে,
মনে রেখে খুঁটিনাটি;
আর অবকাশ নেই চলো উঠি।

চিন্তার ঘরে রেখেছি কেবলি, হাওয়ার বাসর সাজিয়ে,
তানপুরা মোর জীর্ণ এখন, বেসুরের গান বাজিয়ে;
ক্ষয়ে ক্ষয়ে গেছে, সযতনে গড়া, অকালের ভিটেমাটি।

সারাদিন পরে এখন তো দেখি,
হেলায় ফেলায়, বেলা নাই বাকি,
ঘুরেছি বেঘোরে অযথা একাকি,
সকলই কেবল ত্রুটি;
আর অবকাশ নেই চলো উঠি।

লেখা এবং আমি

পরিণতি ভাবিনিতো, কোথায় কি হবে-
লিখে গেছি এক মনে গোপনে, নিরবে।
তুষারের মতো ঝরে পড়েছে সময়,
মিছিলের ভীড়ে হয়ে- একা, আমিময়,
কেবল যুঁজেছি মোর একার আহবে।

মনের তেপান্তরে হারিয়েছি কত,
নতুন কালির ক্ষতে তোমাকেই পেতে;
আবার নতুন করে হতে বিক্ষত,
ছড়িয়ে পড়েছি কোন নতুন লেখাতে।

Tuesday, July 24, 2018

তৃষ্ণা

দুষ্মন্ত: খেতে গিয়ে পড়ে যাওয়া দুই ফোটা জল ছুঁয়ে দিল বুক আর বুকের আঁচল। যদি দিতে চাও মোরে কোনো দক্ষিণা, ওই দুই ফোটা জল করি প্রার্থনা।।


শকুন্তলা: পড়ে যাওয়া জল ভাসে চির অনাদরে, কখনো সাজে না সে যে প্রীতি উপহারে। নিতে যদি চাও- নাও অশ্রুর ভার- দান নিয়ে দাতা হও; করো সুবিচার।।




দুষ্মন্ত: নেব আঁখিজল নেব আঁচলের ফুল, ভালবাসা বুঝে নেব তার সমতুল। তথাপি সে বুকছোঁয়া দু ফোটা জীবন আবে হায়াতের মতো চায় দেহমন।।


শকুন্তলা: আগ্রাসী প্রেম জানি সবকিছু চায়, আলো, আলেয়ার ভেদ করে সে বিদায়; তবু আলো চিরদিন প্রভা করে দান, আলেয়া- সে কভু নয় আলোর সমান। এ জগতে যাহা ঝরে, হারায় অকূলে ম্লান হয়ে যায় ফুল শাড়ির আঁচলে, যা থাকে, তা থাকে- শুধু হৃদয়ের ধন এ দু’ফোঁটা জল কভু থাকে আজীবন?


দুষ্মন্ত এ ধরাতে নয় কিছু অবিনশ্বর, আলেয়ার আলো, চাঁদ-তারা-প্রভাকর। মধু আর মধুপের মিলনের কথা লিখেছেন মনবনে বিশ্ববিধাতা।। ফুলের সুবাস, শোভা, মধু ও পরাগ, সব মিলে সাজে ফাগুনের গুলবাগ, নয় শুধু অনুভূতি বিরহের খেলা, প্রেমযমুনার তীর খোঁজে রাসলীলা।।




শকুন্তলা:

তাই যদি হয়, তবে এ দু'ফোটা জল-
ধারণ করেছে এই হৃদয় কমল,
অশ্রুর মতো জানে সেও কথকতা,
প্রেম যমুনায় লেখা আছে সে বারতা।

আত্মসমর্পণে প্রেমের সাধনা,
সেখানে কি বাদ থাকে জল দুই কণা?
আমাকে গ্রহণ করো, প্রাণেশ আমার,
এ দু'ফোটা জল তাতে থাক উপহার।



উল্লেখ্য: দুষ্মন্ত ছিলেন পুরু বংশীয় রাজা, পঞ্চপাণ্ডবের পূর্বপুরুষ। রাজা দুষ্মন্ত মৃগয়াতে এসে কন্বমুনির আশ্রমে কণ্ব মুনির পালিতা কন্যা শকুন্তলার দেখা পান ও তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে বিবাহ করতে চান। শকুন্তলা বিবাহ করতে রাজি হন এই শর্তে যে,তাঁর গর্ভজাত পুত্র দুষ্মন্তের অবর্তমানে সিংহাসনে বসবেন। দুষ্মন্ত তাতে স্বীকৃত হয়ে শকুন্তলাকে নির্জনে গান্ধর্ব মতে বিবাহ করেন। এই কবিতাটিতে আমরা শকুন্তলার প্রতি দুষ্মন্তের আকৃষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে শকুন্তলার আত্মসমর্পণে সম্মত হওয়া পর্যন্ত উভয়ের কিছু কাল্পনিক সংলাপ তুলে ধরেছি।

দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার সংলাপগুলো লিখেছেন যথাক্রমে Riyadul HassanShaheen Mahmud

পরশ-অপরশ

পরশ: 

বললে তুমি বাসবে ভালো শুধুই মনে মনে-
শুনে আমি মুচকি হাসি, অতি সংগোপনে
মৌমাছিটার গান শুনে কি ফুল ফুটেছে বনে?
মধুর সাথে পরাগরেণুর চুক্তি কে না জানে?

বললে তুমি বাসবে ভালো সত্যি দূরে থেকে,
যেমন করে দূরের বাঁশি কাঁদায় হৃদয়টাকে
শুনে আমি প্রশ্ন করি মনের সঙ্গিনীকে,
বাঁশি কেন বাঁশুরিয়ার অধর ছুঁয়ে থাকে?

বললে তুমি আমি নাকি বড্ড বেশি বেশি,
বাড়াবাড়ি করলে পাবো দুঃখ রাশি রাশি
শুনে আমি অট্টহেসে বলি, "হে প্রেয়সী
দুঃখকে ভয় লাভ কী করে দুঃখ ভালোবাসি"

পড়ে থাকা লোহায় যেমন মরচে ধরে যায়-
স্রোত হারালে বালুর চরে নদী হোঁচট খায়
তেমনি ভালোবাসা বাঁচে, যতন চর্চায়
প্রেমের ধরা হৃদয় এবং হাতের পরশ চায়


















অপরশ: .
বেশ বলেছো, ভাবছি আমি কোথায় ভালোবাসা?
মিলন হলেই যায় কি মিটে মনের তিয়াসা?
আকাশ, বাতাস, মাটি ফুল শুনলে তাদের ভাষা,
দেখবে সেথায় সবটা দেবার নিষ্কাম প্রত্যাশা

ধরার নিয়ম মেনেই পরাগ মৌমাছিতে লাগে,
ভালোবাসা কিন্তু সেথাও কবির মনেও জাগে
বাঁশি যেমন বাশুরিয়ার পরশ অনুরাগে,
সুরের মাদকতা ছড়ায় বসন্তেরই রাগে

মিলন হতে পারে যখন শরীর যেমন চায়,
এইটুকুতে ভালোবাসার সীমান্ত আটকায়?
মনের মাঝে অসীম ভুবন, চাওয়ায়-পাওয়ায়,
তার সীমানা বেঁধে কে দেয় অসীম ধৃষ্টতায়!

ভালোবাসার চর্চা, যতন- ভালোবাসায় বাঁচে
মনের গহীন বন্দরে তার রাজত্ব বিরাজে
হাতের পরশ থাক বা না থাক লহরী তার বাজে,
নিকষিত প্রেমের ছোঁয়ায় শুদ্ধ প্রেমের সাজে


পরশ এবং অপরশ অংশ যথাক্রমে লিখেছে, সুধাচোর এবং ডা. শাহীন