Monday, November 19, 2018

হায়রে মুসলমান














রাসুলের ডাক কে শুনে আর করবে জীবন দান
হায়রে মুসলমান।

ত্যাগের চিন্তা ভোগের ফাঁদে,
দিনে রাতে যাচ্ছে কেঁদে,
দেওয়ার কথা উঠলে দেয় আজ রাসুলকে কোরবান।

জীবন দিয়ে, সম্পদ দিয়ে শান্তি আনতে চেয়ে-
সংগ্রাম ছিলো রাসুলের, সেটা ভুলে গেছি কি উপায়ে?

আজকে কেবল জীবন জুড়ে স্বার্থের জয়গান
ভোগ লালসায় মজ্জিত সব পরগাছা শয়তান।
হায়রে মুসলমান।

খুব মজে আছি নামায রোজায়
(আর) নিজের পেটটা ভরার পূজায়
ইসলাম খুঁজি অক্ষরে শুধু, বলি দিয়ে বলিদান।

শাশ্বত
















সকালের রোদ একই ভাবে আসে প্রাচীন কালের মত
শীতের কুয়াশা একইভাবে ভাসে ধূসর বেদনাহত।
একই ভাবে পাখি গেয়ে যায় গান – নিজের কথামালায়,
একইভাবে হাসে মুক্ত পৃথিবী, কাদেঁ কারো কান্নায়।

জীবনের সব সুর কেটে যাবে, যেভাবে সময় কাটেঁ;
মানুষ থাকবে, হেঁটে যাবে তারা পরিচিত তল্লাটে।
কারোদিন যাবে অগোছালো, কারো স্বপ্ন দু’চোখে বুনে-
কারো ব্যস্ততা স্বপ্নবিহীন জীবনের সন্ধ্যানে।

আজকের ফুল ঝরে যাবে তারা যেভাবে ঝরেছে কাল,
আজ যা মধুর ভীষণ কামনা, কাল হবে জঞ্জাল।
পরিবর্তনও আসবে যেভাবে সব কিছু বদলায়,
তুমি হয়ে যাবে অ-পরিচিতা- আমার পৃথিবীটায়।

আমিও হারাবো মহাকালের এই অতিচেনা পথ ধরে,
বিস্মৃতিই হবে অমোঘ নিয়তি নিয়মের পারাবারে।
একটি কথা রেখে যাবে তবু খাপছাড়া এলোমেলো,
ভুলে যাওয়া এই পৃথিবীতে আমি তোমাকে বেসেছি ভালো।

পথের টানে





















রাতের আঁধার চিড়ে দিলো এই এক ফোঁটা রোদ্দুর,
চলো হেঁটে চলি তার পথ ধরে বহুদূর…..বহুদূর।
ঘাসে ও শিশিরে, সবুজে-তুষারে মিতালীতে পথ চলা,
তার তালে তাল রেখে হোক আমাদের কথা বলা।
কথায় বলবো, কিভাবে মানুষ মানুষের হাত ধরে-
বলবো কিভাবে শুকনো দু’চোখে মমতারা ভীড় করে;
বলবো কিভাবে ক্রন্দনগুলো ইতিহাস হয়ে যায়,
কতটা ব্যাকুল হলে এ পৃথিবী ভালোবাসা পেতে চায়।
আমরা বলবো সুদিনের কথা, হোক পথ বন্ধুর
এক ফোঁটা রোদ সাথে নিয়ে চলো বহুদূর বহুদূর।

যেমন আকাশে রংধনু ভাসে, কুয়াশারা উড়ে যায়
আশা ও স্বপ্ন ভাসুক এভাবে সুদূর পথচলায়,
পথেই ছড়াবো ভোরের আবীর, পথেই ছড়াবো গান
নিস্প্রাণ চোখে আমরা করবো পুনর্জন্ম দান।
আরেকটি ভোর পৃথিবীর হোক বিবর্ণ প্রান্তরে,
যেখানে আঁধার বেসুরো মৃত্যু অবিরাম খেলা করে,
খেলাঘরটাই ভেঙ্গে ফেলি নিয়ে দ্বিধাহীন কিছু সুর-
তার পথ ধরে হেঁটে চলি চলো, যায় চোখ যতদূর।।

Tuesday, October 30, 2018

Acrostic – 5



 










শুণ্যতা- ঘিরে থাকে বহুরূপী সময়ের ছকে;
একটি নক্ষত্র-হৃদয়, অনন্তে স্থির হয়ে থাকে-
সাত আসমান তাকে ভরে রাখে মিথ্যে স্তবকে,
‘একটি মুহুর্তে পাবে পূর্ণতা এই মহালোকে’।

শুণ্যতা- শুধু একা সাথী হয়ে থাকে রাতদিন-
পঞ্চাননের বুকে পার্বতী যেন আছে জড়ায়ে নিবিড়,
নবমীর চাঁদে যেন সীমাহীন আকাশের ভীড়;
সপ্তম সুরে তাই কেঁদে চলে মরমের বীণ।

সাতটা সমুদ্দুর মাঝখানে তাহার আর আমার,
ষড়জের মত করে মহাকাল গড়ে অবিচার-
পঞ্চশরটা বেঁধা- তবু বিধি থাকে বিধাতার!

Saturday, October 20, 2018

কৈশোরের গান


সম্মুখে পথ, বুকে প্রত্যয় আমরা চির-কিশোর
সত্যের পথে ছুটে চলা কুঁড়ি, আনতে নতুন ভোর।


ধরা স্বার্থে ও লোভে উত্তাল
তাকে গ্রাস করে আছে দাজ্জাল
আজ তার টুটি চেপে ধরবে মোদের বজ্রশক্তি-ডোর।


শক্তি-মন্ত্র “ঐক্য” জঁপেছি, শপথটা আনুগত্যের
শৃঙ্খল ভাঙ্গি- অস্ত্র মোদের শৃঙ্খলা মহাসত্যের।
পৃথিবীর মোহে ডুবে যাওয়া যত উদ্বাস্তুর প্রাণে
চেতনা ফেরাবো আমরা ত্যাগের মহান উচ্চারণে।


যত অনাচার ভেঙ্গে পৃথিবীর
নিয়ে আসবো সুদিন শান্তির
যত কর্ম, ভাবনা, বিষয়, সহায়- সম্বল করে মোর।

Friday, August 31, 2018

আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে
















আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে,
আর কাল টেনে- ভুল পথপাণে,
দিন কাটবে না স্রেফ ক্রন্দনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।

তাই, দুই চোখে আজ ছুটবে আগুন উচ্ছাসে,
পুড়বে যত স্বার্থ-বিধান, নতুন যুগের উদ্ভাসে।

ভাঙ্গবে বিভেদ, সীমার বেড়া,
অত্যাচারী শোষক যারা;
পুড়বে তাদের পাপের চিতায়, নিজের বোঝার বন্ধনে।
তার অত্যাচারের গান শুনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।

আজ ধর্ম কাঁদে যন্ত্রনাতে,
নিজেই সে আজ ভীষন ফাঁদে,
ব্যবসা আর রাজনীতিতে, বিকোয় এখন-
খোদার বিধান, হয় পরিমাণ, তুচ্ছ টাকার লেনদেনে।
আজ মানুষ মরে সংঘাতে,
সব ভণ্ডরা পায় ভাত তাতে,
আর লক্ষ মায়ের কান্না ভাসে, তাদের প্রাসাদ প্রাঙ্গনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।

আজ দেশটা ভাসে তন্ত্র ধরে,
মানুষ মরে অন্ধকারে,
ক্ষুধার জ্বালায় প্রাণ চলে যায় শান্তি খোঁজে কোনখানে?
যায় জীবন বৃথাই সন্ধ্যানে;
আর ভোট দিয়ে হয় মানুষ গোনা, মানুষ মরে দিন গুনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।

আজ ভন্ডরা সব ভেক ধরে,
যায় দেশ জাতি সব উদ্ধারে,
কারোর কেবল চাই ক্ষমতা, কেউ বা সেথা-
ভীষণ ভীষণ টাইটেল দিয়ে নাম টানে,
তারা নিজের পেটই ভরছে কেবল, শুষছে এ দেশ আনমনে।
সবাই আছে মিথ্যে মজে,
ভন্ডদের এই গুঞ্জনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।

আজ জাগবো যত ছন্নছাড়া,
ক্ষুণ্নহৃদয়, সর্বহারা,
যাদের হৃদয় নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে-
শান্তি আনার গান জানে।
আজ ধরবো বাজি, মরতে রাজি,
শান্তি আনার পণ মেনে-
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।

আজ মুক্তি পাবে সহস্র প্রাণ,
মুক্ত হয়ে ছুটবে আযান,
যেখানে যে নিপীড়িত, দগ্ধাহত-
উৎপীড়কের গুণ টেনে;
তাই ভাঙ্গবো মানুষ মারার বিধান, নতুন যুগের উত্থানে।
সব ভন্ডদের আজ খুলবো মুখোশ, শুদ্ধ প্রাণের দিন চিনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।
আজ জাগবো প্রানের স্পন্দনে।


(এই লেখাটি কাজী নজরুল ইসলামের আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে" কবিতাটির ছন্দকে হুবহু অনুসরণ করে লেখা হয়েছে। ছন্দের একটা এক্সপেরিমেন্ট বলা যায় আর কি। )

Wednesday, August 29, 2018

এখন চাইছি স্পর্শ তোমার













এখন চাইছি স্পর্শ তোমার
ছুঁয়ে থাকা আজীবন,
আমার হৃদয়ে খুঁজছি তোমার মন।

হতাশায় মোড়া যুগের অসুখে
বাঁচবো আমরা চোখে চোখ রেখে
যত বঞ্চনা, অভিমান ঢেকে
ভালোবেসে আমরণ।

তোমার কথার ছন্দ ভাসছে মগজের পরিধিতে
ভালোবেসে মন চাইছে তোমার ভালোবাসা বুঝে নিতে।

তোমার হাতটা বন্ধন হয়ে
নি:স্ব এ হাতে থাকুক জড়িয়ে
একসাথে শিখে নেবো অসময়ে
বেঁচে থাকা প্রতিক্ষণ।