Wednesday, November 15, 2017

বিভেদ

এখানে রাত্রি- আঁধারের বুকে শুয়ে,
ভাসায় স্বপ্ন অসম্ভবের নায়ে;
জীবন এখানে নির্ঘুম রাতে- ছুঁয়ে,
সঞ্চিত আশা- বঞ্চিত পরিণয়ে



তোমার দিবস পূর্ণ আলোয় আঁকা
স্বপ্ন সেখানে স্বপ্নের-মরিচীকা;
ওখানে জীবন জ্যামিতির সুরে শেখা-
সঞ্চিত সুখে, বঞ্চনা ঢেকে রাখা।

এখনো কুয়াশা










পায়ে পায়ে আজ শিশিরের কোলাহল,
আকাশ-অশ্রু বাতাসের বুকে ভাসে;
কুয়াশা, তোমার অবারিত চলাচল-
আজো নি:শব্দতা ভর করে ফিরে আসে


বিবর্ণ আর ধূসর ধূলার ধোঁয়ায়,
গ্রাস হয়ে আছে মানুষের অঞ্চল;
হৃদয়ে অজানা আধাঁরের চাওয়া-পাওয়ায়,
স্বপ্ন-ব্যাকুল দিগন্ত বিহ্বল


আমিও ব্যাকুল, আমার ক্লান্তি ছুঁয়ে,
দুই হাতে মৃত-সীমানার হাতকড়ি,
চোখ নির্ঘুম, মুক্তির পথে চেয়ে-
ছিন্ন পালেই ভাসছে জীর্ণ তরী


আমার স্বপ্ন রাত্রিতে ভেসে চলে,
তারায় তারায় সুদূর সঞ্চারণ,
আমার স্বপ্ন অতীতের কথা বলে,
বিভাবরীতেই বিস্মৃত ভীরু মন


কুয়াশা, তুমি কুয়াশায় আজো লীন-
সময়ের বুকে, মিশে সময়ের মতো;
ভাবনায় নিয়ে কৈশোর অমলিন-
কালের সীমানা পেরিয়ে আজ অক্ষত

Tuesday, October 17, 2017

নাদান প্রশ্ন


















নাদান বান্দা:
হুজুর, আমি বান্দা নাদান, প্রশ্ন নাদান তাই-
মনের মধ্যে খটকা গেরো, খোলার বিধান চাই
কালকে যখন কোরআন পড়ি,
ঘন্টা বাজায় মনের ঘড়ি,
একটা দুটো প্রশ্ন মনে বাজাচ্ছে সানাই,
অনুমতি- আরজ করি, মনের আশাটাই


জ্ঞানী বান্দা:
আরে, বলো, কি জানতে চাও, সময় বহুত কম,
হারুর গরুর কল্লাটাকে খেয়েছি বেদম।
শ্বাসের ঘরে হাফাস হাফাস,
পেটটা কখন করবে ধপাস,
ছুটলে তলা- শরম ভারী, ওরে বে-রহম;
তোর কথা বল, শুনে দেখি প্রশ্ন কি রকম


নাদান বান্দা:
আল-বাকারায় কালকে দেখি, খোদার রুদ্ররূপ,
শাস্তি দেবার প্রতিশ্রুতি, ভীষণ বিরূপ।
ধর্মে যারা নেয় বিনিময়,
পবিত্রতা তার নাকি নয়,
আগুনে তায় পোড়াবে - তার নিস্তার নিশ্চুপ;
আমল হবে অঙ্গার আর জাহান্নামের ধূপ।।


জ্ঞানী বান্দা:
(স্ফূর্তি ছেড়ে, উঠলো তেড়ে, স্বরাজ মহাশয়,
তলার ধারা ছুটলে মাথায় এমন-তরোই হয়
ধর্ম যে তার খাদ্য-সহায়,
ব্যবসা-পাতি, বিষয়-আশয়,
পেটের উপর পড়লে লাথি বেরোয় পরিচয়,
ব্যবসা-গোমর ফাঁক হলে তা সহ্য করার নয়।)


ওরে অধম, ওরে নাচার, মূর্খ, হে নচ্ছার-
দুটো কলম কোরআন পড়েই এত অহংকার!
তুই বেয়াদপ, ভীষণ ফাজিল,
কিসের সাথে কি দিলি মিল,
ব্যাখ্যা ছাড়া আল কোরআনের স্পর্শ অনাচার;
যাই লেখা থাক, তফসীরে হয়- ইধার কে ওধার


পষ্ট করে যতই লিখুন আল্লাহ সোবাহান,
আমরাই শুধু বুঝতে পারি কি বোঝাতে চান;
শিখেছি তা মেহনতে,
তুই কিনা আজ হর-হাভাতে,
যা লেখা তাই পড়ে করিস প্রশ্ন করার শা;
মোদের গায়ে ছুঁড়লে কাদা খোদার অপমান


নাদান বান্দা:
স্পর্ধা করুন ক্ষমা, হুজুর, পথ না পেয়ে শেষে-
আপনাতেই আসতে হলো এই দুয়ারে ভেসে।
ধর্ম এখন বেগার খাটে,
তাপ্পি মারা পকেটে,
দ্বীনের অধিকারটা এখন একদমই একপেশে;
হুজুর এবার দিন ফতোয়া, খোদার কথার শেষে


খোদা বলেন- অতি সহজ, আমার কোরআন,
কামার, কুলি, কৃষক, শ্রমিক সবার তরেই দান
সময়ের কাফের যারা,
শুনেই নাকি বুঝতো তারা,
উম্মি নবী- খোদার কথায় কি বোঝাতে চান;
বুঝিনা এই সহজ কথা- আমরা মুসলমান


মিলাদ, জিকির, মুর্দা-দাফন, নামাজ, ওয়াজ যত,
টাকার বিনিময়ে দেখি চলছে রীতিমতো।
পড়াশুনার করে এবার,
ধান্দা নিলেন ব্যবসা করার,
খোদার অটুট বানী হলো ব্যাখ্যাতে বিক্ষত;
ইধার কা মাল ওধার ব্যবসায়ের মর্জিমত


ফতোয়া, আর তফসীরে সেই সহজ কথা ঢেকে,
কঠিনমানে’র অন্তরালে ধর্ম কাঁদে শোকে
আমরা সবাই ধর্ম-ক্রেতা
খোদার বানী পন্য হেথা
দিচ্ছি টাকা, বলুন হুজুর, কিমানে’ এর থাকে-
দ্বীনের বিনিময়কে খোদার হারাম বলার ফাঁকে?